বেদুইনদের দিনলিপি: ২০ জানুয়ারি ২০১৬ (by Ummey Qulsum Nipun)

Thursday, January 21, 2016

আমি ইথিওপিয়ার বর্ডার থেকে বলছি।
পাশাপাশি এই ফটোগুলা দেখলে একটু টাশকি লাগতে পারে, অবিশ্বাস্য লাগলে লাগতেও পারে, কিন্তু কিচ্ছু করার নাই। কারণ সবগুলা আজকের আর কালকের তোলা। খালি একটা ১৯০৭ সালের , যখন আমি সোমালিয়াতে কাজ পেয়ে আসি নাই। মাত্র ১০০ বছর আগেও যারা আমাদের শাবানা আপা রোজিনা আপার মতো সাদা কাপড় প্যাঁচ দিয়ে পরত, কোনো জ্যাকেট- ব্লাউজ ছাড়া। তারা যে কেম্নে এখন ওই আলখাল্লা বোরখার ভিতরে ঢুকে গেল ঠিক বুঝে ওঠা দায়।
কাঁটা গাছে ছাওয়া ওই মরুভূমি মার্কা এলাকা দিয়ে যখন প্রজেক্ট ভিজিট করতে যাই, চোখ আঠার মতো জানালার কাচে লাগিয়ে রাখি যেন একটা দৃশ্যও নষ্ট না হয়, আর বুভুক্ষুর মতো গিলতে থাকি দৌড়ে পালানো উটের সারি, কিম্বা ছাগল-ভেড়ার শংকর Somali Shoats-এর পাল। বেদুইন গোত্রের এই মানুষদের কাছে যেতে চাইলে, কথা বলতে চাইলে ঠিক এভাবেই কেউ কেউ দৌড়ে পালায়, ভয়ও পায়। কে বোঝাবে ওদের যে এই ছোট্ট মোবাইল ক্যামেরা দিয়ে আমি তোমাদের মারব না তো!!! পাহাড়ের ফাঁকে ফাঁকে রঙিন টুকরা কাপড় দিয়ে বানানো ওদের ছোট্ট ছাউনি ঘর, মাইলের পর মাইল কোনো জনমানব নেই, পানি নেই- শস্য নেই। পাশাপাশি ২-৪টা বা ৬টা ঘর নিয়ে হয়ত একটা গ্রাম, কেউ কেউ শুধুই একা আর তার এক পাল ভেড়া, অথবা একটা গাধা নিয়ে সংসার। বেদুইন বাড়ির (এমনকি আধুনিক সোমালি সমাজেও) মেয়েদের মূল কাজ সারাদিনের খরচের জন্য পানি সংগ্রহ করে আনা। ১৫-২০ কিলোমিটার হেঁটে, কখনও বর্ডার পার হয়ে জেরিকেন ভরে পানি তারা পিঠে করে বয়ে আনে- ওইটুকুতেই সারাদিনের খাওয়া, রান্না, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কী না করে! প্রতিদিন গোসল করা তাদের কাছে বিলাসিতা মাত্র, খাওয়ার পানিই তো জোটে না। সারাদিনে খাবার বলতে একটু ভুট্টা আর সাথে বুনো লতাপাতা সিদ্ধ, কালেভদ্রে ভেড়ার/খাসির মাংস। তবে ওদের অনেকেরই মোবাইল আছে। বেদুইন এই মানুষগুলোর প্রয়োজন মেটাতেই কি না কে জানে, এক ধরনের মোবাইল এখানে পাওয়া যায়, যেটা দেখতে আমাদের টিভির রিমোটের মতো, মাথায় টর্চ ওয়ালা- একবার চার্জ দিলে সাত দিন অন্তত চলে। এত বড় আর ভারী যে কথা বলতে বলতে রাগ উঠলে ওইটা ছুঁড়ে আশেপাশের কারো মাথা ফাটায়ে দেয়া যাবে। তবে সোমালিরা মোটেই রাগে না কিন্তু (থুতনি থেরাপি তো আছেই সাথে)।
মরুভূমি ধরে যেতে যেতেই চোখে পড়বে ঝকঝকে সবুজ গাছের সারি। গাড়ির দুলুনিতে ঘুম পেয়ে গেলে, তখন হঠাৎ করে চোখ খুললে বুকের ভেতর ধক করে ওঠে "আরি, বাংলাদেশ এলাম কখন?"... হতভম্ব মুরগির মতো বারবার এদিক ওদিক ঘাড় ঘুরিয়ে পাহাড়- উপত্যকা খুঁজে না পেলেও সমস্যা নেই, একটু পরেই উট এসে জানালার কাচে নাক ঘষতে পারে (খুব সৌভাগ্যবান হলে)। আজকে এই উটগুলোর মালিক ঢিল ছুঁড়ে মেরেছে আমাকে। :( :(
ফটো তুলতে গেছিলাম যে! ওদের মধ্যে বদ্ধমূল ধারণা আছে যে ছবি তুললে ওর পশুগুলো মরে যাবে।
এখানেই শেষ না। গাছের সারিগুলোর বেশিরভাগ জোড়া জোড়া করে লাগানো। সোমালিরা বিশ্বাস করে "বিয়ের পর জামাই- বউ একসাথে গাছ লাগালে সেই গাছ যতদিন বাঁচবে, ততদিন ওরাও একসাথে থাকবে"। গাছগুলোর গায়ে নাম লেখার ব্যবস্থা থাকলে সোমালি পলিগ্যামিস্টদের খবর ছিল। দেখা যাইত বড় বউ এসে ছোট বউয়ের নামে লাগানো গাছ কেটে দিয়ে গেছে। :P :P

কালকে শহর থেকে অনেক দূরে দেশটার শেষ মাথায় যাওয়ার পথে হঠাৎ করেই গাড়ির চাকা খুলে দৌড় দিলো। তিন চাকায় ঘ্যাস ঘ্যাস করে আমরা চলতে থাকলাম, আর বেকুবের মতো তাকায়ে তাকায়ে দেখতে থাকলাম চাকা বাবাজি নাচতে নাচতে চলে যাচ্ছে মরুভূমির ভিতর দিয়ে, কোথায় কে জানে! প্রায় আধ মাইল গিয়ে তারে খুঁজে পাওয়া গেছে !!! সিনেমাতে বহুবার দেখা এই সিন যে আমার জীবনেও ঘটবে, স্বপ্নেও ভাবিনি কোনদিন। সেই সুখে রাস্তা উপরেই মডেলিং করতে বসে গেছিলাম, আবার নতুন করে চলা শুরু করার আগে।
টম হ্যাংকস তো বলেই দিছে,
‘Life was like a box of chocolates. You never know what you’re gonna get.’


এই পিচ্চিগুলাকে হাসাইতে আমার জান বের হয়ে গেছে- ওরা মাঠে ছাগল চড়ায়। মিস গোলাপি অবশ্য ম্যানচেস্টারে থাকে- মহা পাকনা। ৩ বছর বয়সি এই ভদ্রমহিলার ফিলসফি হলো "বিয়ে করবা না কিন্তু, খবরদার!" আমার মাথার কাপড় পড়ে গেলেই সে চোখ রাঙায়ে সেটা ঠিক করে দিচ্ছিল।


সোমালিল্যান্ডের বেদুইন আবাস... ওদের আধুনিক গালভরা নাম হলো Nomads, Pastoralists, Agro-pastoralists.
  
ইয়াপ... বাংলাদেশ না
  

আমার দেশের বাইরে আসা (by মুক্ত পাখি)

Thursday, December 11, 2014

যখন আমি স্কলারশিপ পেলাম, তখন সবার আগে মনে হয়েছিল আমার এই অর্জনকে কে কীভাবে দেখবে। আমি এমন একটা পরিবারে মানুষ যেখানে মেয়েদের কে একমাত্র গুরুত্ব দেয়া হতো সে কতটুকু সুন্দর সেটা দেখে। কেন আমি এত খাটো, কেন আমি এত মোটা তাই নিয়ে আম্মা সারাদিন বকত। কাজিনদের (সমাজের কাছে তারা সুন্দর কারণ তারা লম্বা আর ফর্সা) সাথে তুলনা দিত। আমার সমসায়িক ছিল আমার এক খালাত ভাই। সারাদিন তার জ্ঞানের উদাহরণ দিত। যদিও সে ক্লাস এর মাঝের দিকের ছাত্র ছিল, তুলনামুলকভাবে স্কুলে আমার পজিশন ভালো ছিল, তাও আমি শুনতাম তার মতো ব্রিলিয়ান্ট নাকি জগতে নাই, ক্লাসের ফার্স্ট বয় নাকি তার কাছে থেকে পড়া বুঝে। তাকে নিয়ে আমার মা বাবার গল্পের শেষ নেই, মাঝে মাঝে মনে হতো আমি কি আদৌ আছি কোথাও? আত্মীয়স্বজনরাও একই কাজ করত। এস এস সি, এইচ এস সি দুটোতেই জি পি এ ৫ পেয়ে আমি বাংলাদেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলাম। ভাইটি তেমন কোন ভালো জায়গাতে চান্স পেল না। যেসব যায়গা তে সে চান্স পাবে বলে আমার মা-বাবাসহ সবাই গ্যারান্টি দিয়ে রেখেছিল আমাকে খোঁটা দিত: "তুই তো বাপের টাকা নষ্ট করবি, গিয়ে ভর্তি হবি প্রাইভেটে।" এদের সবাইকে দুঃখ দিয়ে আমি টিকে গেলাম সব জায়গায়। সবচেয়ে আজব ব্যাপার আমার মা-বাবাই মনে হয় বেশি দুঃখ পেল। আত্মীয়দের কথা বাদ দেই, আমার মা-বাবাই দেখি সবাইকে বলে বেড়াচ্ছে যে আমার তো মাথায় বুদ্ধি নাই, তাই সারাদিন মুখস্থ করি আর তাই সব জায়গাতে চান্স পেয়েছি। আমার কাজিন অনেক ব্রিলিয়ান্ট, খালি মুখস্থবিদ্যা নাই দেখে চান্স পায় নাই। কী আর বলব!
এরপরে এলো সবচেয়ে অদ্ভুত থিওরি। আমার আত্মীয়রা নাকি খুবই নিশ্চিন্ত আমি ভালো জায়গায়ে ভর্তি হওয়ায়, কারণ এতে আমার ভালো বিয়ে হবে (ভালো ইউনিভারসিটির নাম দেখিয়ে!!!)। বাকিদের তো চিন্তা নাই, কারণ তারা দেখতে সুন্দর!
পাস করে বের হয়ে আমি রিসার্চ আসিস্ট্যান্ট হিসেবে আমার ইউনিভারসিটিতেই একটা কাজ শুরু করলাম। বুঝতেই পারছেন মাইনে তেমন না। ভাই এর মধ্যে ঢুকে গেছে ব্যাংকে। শুরু হলো আবার সবাই মিলে, কী হলো এত ভালো জায়গায় পড়ে? কয় টাকা মাইনে পাও? ও জানো ৬০ হাজার মাসে পায়। শুরুতেই এত পায়, বুঝো পরে কত পাবে। তুমি কী করলা? ব্রেইন না থাকলে তো এমনই হবে! আজও বুঝলাম না আমি কত পাই এইটা কেন আমার সবাইকে জানাতে হবে। আর আমার রিসার্চ করতে ভালো লাগে করলাম, তার ব্যাংক ভাল লাগে সে করবে, এখানে তুলনার কী হলো? খালা, আম্মা এবং অন্যান্যরা দেখি বিয়েবাড়িতেও ছেলের স্যালারির ব্রান্ডিংয়ে ব্যস্ত। আমার যে কী লজ্জা লাগত! মানুষজন না জানি কী ছোটলোক ভাবছে আমাদের! আর আমার মায়ের সে কী রাগ আমার উপর! আমি কেন ভালো কাপড়চোপড় পরে, সেজেগুজে কোথাও যাই না, কোনো বিয়ের প্রপোজাল আসে না, তার আমাকে মেয়ে বলে পরিচয় দিতে লজ্জা লাগে। আত্মীয়রা খালি গল্প করে তাদের স্কুলে পরা মেয়েরও নাকি বিয়ের প্রপোজাল আসে, তারা এতই সুন্দর। আম্মার খুব নিজেকে ছোট মনে হয় কারণ সে এইসব গল্প কাউকে করতে পারে না। কারণ আমাকে কারো বাসায় বা বিয়েবাড়িতে দেখেও কোনো বিয়ের প্রপোজাল আসে না। আমি খুব ক্যাজুয়াল থাকি দেখে সে নাকি সবার কাছে ছোট হয়!
এরপরে রিসার্চার হিসেবেই একটা অনেক বিখ্যাত সংস্থায় চাকরি নেই। বলাবাহুল্য আমার আম্মাই কনফিউজড আমি কীভাবে এই জব পেলাম। আমাকে জিজ্ঞেস করল কত বেতন? বলি নাই, কারণ আমি চাই না এটা নিয়ে একটা তুলনা হোক। অনেক রাগ করেছে আম্মা আব্বা দুজনই আমার উপর। কারণ তাদের আত্মীয়রা জিজ্ঞেস করছে তারা বলতে পারে নাই দেখে তাদের নাকি বলছে যে দেখ কেরানির চাকরি পাইছে (আমি যা খুশি করি তোদের তাতে কী, কোন জবটা ভালো এটা কি তোরা বিচার করবি?) । তারপরেও আব্বা আম্মা আমার উপরে রাগ। বললাম এই সব আত্মীয়দের সাথে মেশার দরকার কী? শুনতে পেলাম তুমি আসামাজিক হতে পারো কিন্তু আমাদের আত্মীয়স্বজন লাগে। সমাজে চলতে গেলে এদের কথা শুনে চলতে হয়। খুব ইচ্ছা করছিল জিজ্ঞেস করতে যে খালি তো দেখি তোমরাই কথা শুনো কিন্তু এরা কবে কী শুনছে তোমাদের? সেদিন বলি নাই, পরে বলছিলাম কি না মনে নাই, কারণ এই জবটার পরে থেকে বাসায় আমার প্রায়ই ঝগড়া হতো। তাদের নাকি আমার বিয়ের প্রপোজাল আসে না, আমি স্যালালির কথা বাসায় শেয়ার করি না, জব করে করে মেয়ের চেহারা আর খারাপ হয়ে গেছে (জব ছেড়ে বাসায় বসে রূপচর্চা করলেও তো বিয়ের প্রপোজাল আসার চান্স থাকে) এই সব শুনতে হয় আর তাই আমার উচিত এখন সবার আগে বিয়ে করা। দুঃখজনক হলেও সত্যি যে বাবা মা তাদের কথার প্রতিবাদ না করে আমার উপর এসে উলটা মানসিক চাপ দিত।
এরপরেও দেশের বাইরে অ্যাপ্লাই করে গেছি বারবার। অন্তত ২০-২২ বার অ্যাপ্লাই করেছি এই ৪ বছরে। ৪ বছর পরে কোথাও একটা ভালো ফান্ডিং প্যাকেজ পেলাম। আম্মা ২ বছর আগে ঘোষণা দিয়ে দিয়েছিল যে আমি খালি টাকা নষ্ট করছি অ্যাপ্লাই করে। মাথায় ঘিলু নাই, এইটা বাংলাদেশে। কেউ না বুঝলেও বিদেশি তো আর বলদ না। আমার কিছুই কখনও হবে না। স্কলারশিপের খবরটা পেয়ে কোনো রিঅ্যাকশন বা তেমন কিছু দেখি নাই। কিছুদিন পরে খবর আনলেন আমার এক নিকট আত্মীয় তাকে জানিয়েছে যে কানাডা হলেও আমার ইউনিভারসিটির সিরিয়াল (ranking) অনেক পরে। মনে হল আম্মা আব্বা কিছুটা হলেও শান্তি পেল, আমি আমার খালাত ভাইয়ের চেয়ে বেশি কিছু হয়ে গেলে যে আত্মীয়রা তাদের কথা শুনাবে আর তারা লজ্জা পাবে, ছোটো হবে।
আমরা অনেকেই হয়ত এই সব নেগেটিভিটির মধ্যে বড় হয়েছি। কিন্তু জীবন থেমে থাকে না। মাঝেমাঝেই মনে হয় অসহ্য, সব ছেড়ে দেই। কিন্তু ছেড়ে দিলে আর নিজের মতো করে বাঁচতে শিখবেন না। আত্মসম্মানবোধ আসবে না। তাই বলছি হাল না ছেড়ে এগিয়ে যান। বিদেশে এসে এখনো হয়ত মাঝে মাঝে হাল ছেড়ে দিতে ইচ্ছা করে। কিন্তু না, আমি হাল ছাড়ছি না। আপনারাও ছাড়বেন না, এতটুকুই অনুরোধ। আর হ্যাঁ, কারো কিছু পছন্দ না হলে তাকে উৎসাহ দিতে না পারেন কিন্তু নেতিবাচক কথা বলবেন না।
আর বাবা-মা যেমনই হোক, আমার বিশ্বাস আমরা ভালো থাকলে তারাও ভালো থাকবেন একটা সময়। (যদিও এখনও দেশে কথা হলে ঝগড়া বেশি হয় একই কারণে যে তাদের অমুক আত্মীয় এই কথা বলেছে, তাদের ছোটো হতে হয়েছে।) কিন্তু তারপরেও সবাইকে বলছি হয়ত বাবা-মা আর আমাদের ভালো থাকা এক না। হয়ত তারা বারবার আপনার স্বপ্নপূরণে বাধা দিবে, কারণ তাদের সুখের সংজ্ঞা আর আপনার সংজ্ঞা এক না। তারপরেও এগিয়ে যেতে হয়। আর এগিয়ে যেতেই হবে আমাদের। নাহলে যে আপনি নিজে কোনোদিন সুখী হতে পারবেন না!
- ধন্যবাদ


অদৃশ্য (by Farhin Sohan Kabir Lita)

অদৃশ্য হয়ে যাবার কথা ভেবেছেন কখনো? আমাকে কেউ দেখতে পাচ্ছে না, কিন্তু আমি সবাইকে দেখতে পাচ্ছি, সবার মাঝ দিয়ে আমি হেঁটে চলে বেড়াচ্ছি। কি দুর্দান্ত হতো, তাই না?
দেড় কোটি মানুষের এই শহরে, যেখানে পথে নামলেই গায়ে গা ঠেকিয়ে হেঁটে চলা অগণিত ব্যস্ত মানুষ খুঁজে পাওয়া যায়, সেই শহরে অদৃশ্য হয়ে যেতে কী করতে হয়?
ঘরের দরজা খুলে বাইরে বের হওয়ামাত্র, একটা মেয়ে টের পায়, অগণিত জোড়া জোড়া চোখ লক্ষ্য করছে তাকে। কেউ নজর পড়তেই দৃষ্টি সরিয়ে নেয়, কেউ মুখের আদলটা দেখে নেয় একটুখানি, কারও দৃষ্টি স্ক্যানারের মতো স্ক্যান করে যায় মেয়েটার সর্বাঙ্গ। এদের মধ্যে বেশ কয়েক জোড়া চোখ, ইঙ্গিত ছুঁড়ে দিতেও কার্পণ্য করে না। এই টের পাওয়াটুকু, অসংখ্য জোড়া জোড়া চোখের ফোকাস বিন্দুতে থাকার অস্বস্তিটুকুর সাথে আমরা মানিয়ে গিয়েছি, এটা এখন আমাদের প্রাত্যহিক চলাফেরার সঙ্গে মিশে গেছে।
দেড় কোটি মানুষের এই শহরে, একটা মেয়ের অদৃশ্য হয়ে যেতে কী করতে হয়?
আমি বলে রাখছি, এটা নিতান্তই আমার নিজস্ব এবং কাকতালীয় একটি অভিজ্ঞতার বর্ণনা আর সেই পরিপ্রেক্ষিতে আমার নিজস্ব কিছু বক্তব্য মাত্র। আমি কাউকে এটা করতে উৎসাহিত করছি না।
শীতের সন্ধ্যা। কোনো একটা কাজ সেরে ফিরছি। রিকশায় বসে আমি, চোখে চশমা, পরনে নীল জিন্স। গায়ে একটা কোমর অব্দি লম্বা কালো ফতুয়ার ওপরে ভারী হুডি সোয়েটার চড়িয়ে রেখেছি। পায়ে আমার নিত্য সঙ্গী রঙচটা কনভার্স জুতো।
এই শহরেরই কোনো ব্যস্ত রাস্তা দিয়ে রিকশা যাচ্ছে আমার, রিকশার হুড অবহেলায় ফেলে রাখা, আমার সারা জীবনের অভ্যেস। কী মনে হতে, আমি আমার সোয়েটারের হুড তুলে দিলাম মাথায়। আমার অবিন্যস্ত চুলগুলো ঢেকে গেলো, চশমা পড়া চোখ আড়াল হয়ে গেলো কালো হুডের নিচে, মুখমণ্ডলের একমাত্র দৃশ্যমান অংশ বলতে রইলো আমার চোয়ালটুকু, সেই সাথে হাতের কবজি অব্দি খোলা।
কয়েক মিনিট পরে আমার চমকাবার পালা। কিছু একটা বদলে গেছে। কিছু একটা আর আগের মতো নেই। আমি খেয়াল করলাম, আমার দিকে আর কেউ তাকাচ্ছে না। কেউ না।
আমি অদৃশ্য! অগণিত জোড়া চোখের ফোকাস বিন্দু থেকে নিজেকে সরিয়ে ফেলতে পারার সেই অভিজ্ঞতা এবং অনুভূতিটুকু ছিলো অন্যরকম। যেন অন্য একটা ভাষা, আমি বুঝতে পারছি, কিন্তু ফুটিয়ে বলতে পারছি না। আমি বোঝাতে পারবো না সেই ভালোলাগাটুকুর কথা।
খেয়াল করুন, সেই মুহূর্তে, পোশাকে আশাকে আমার সাথে কোনো পুরুষের পার্থক্য ছিলো না। দেড় কোটি মানুষের (!) এই শহরে, পচাত্তর লাখ সাধারণ(!) পুরুষের কাতারে চলে গিয়েছিলাম আমি, হয়ে গিয়েছিলাম নজরের আড়াল।
দেড় কোটি মানুষের এই শহরে, একজন মেয়ে হিসেবে অবজেকটিফাইড না হবার সেই কয়েকটা মিনিট, আমার জীবনের স্মরণীয় সময়গুলোর মধ্যে তোলা থাকবে।

আমার মা (by শান্তা হোসাইন)

Wednesday, September 24, 2014

এই গল্পের প্রধান চরিত্র একজন মা। সম্পর্কের সূত্রে ঊনি আমার মা। আমার মায়ের মতো এমন অনেক মা ছড়িয়ে আছেন বাংলাদেশের অনেক গলিতেই। তাদের গল্পগুলো অজানাই থেকে যায়। সেই তাগিদ থেকেই আমার এই কাঁচা হাতের লেখা।

আমার মায়ের বিয়ে হয় আনুমানিক ১৩/১৪ বছর বয়সে। মোটামুটি ধনী পরিবারের বড় সন্তান ছিলেন উনি। অনেক ধুমধাম করে বিয়ে হয়েছিল তাঁর। আমার বাবা একজন চাকুরিজীবী ছিলেন। সচ্ছল পরিবার। কঠিন বাস্তবতা থেকে অনেক অনেক দূরে রান্নাবান্না, ছেলেমেয়ে, মানুষ আর বেগম পত্রিকার পাতা উলটায়ে তার জীবন চলে যাচ্ছিল। দস্যু বনহুর পড়তে পড়তে দুধ পোড়ানো ছাড়া জীবন তার মোটামুটি নিরুত্তাপই ছিল।

আমার মা যখন বিধবা হয়, তখন আমার মায়ের আনুমানিক বয়স ৩০। ৪ সন্তান। বড় ভাইয়া ১৩ বছরের, ছোট ভাইয়া ১২, আপু ৪ আর আমি তখন ১ বছরের। আমার আব্বা মারা যাওয়ার সময় একটি ব্যাংকে ম্যানেজার হিসাবে চাকুরিরত ছিলেন। বাবার সঞ্চয়ের অভ্যাস ছিল না। উপরন্তু ছিল সাহায্য করার এক তীব্র মানসিকতা। এমনকি প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা লোন নিয়ে খুব কাছের মানুষদের সাহায্য দিয়েছিলেন। তাই আব্বা মারা যাওয়ার পর প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকাটাও আম্মা সম্পূর্ণ পায়নি।

চার সন্তান নিয়ে বিধবা আমার মা তখন দিশেহারা। নানাবাড়ি ততদিনে প্রায় শূন্য। মানুষও নাই, প্রাচুর্যও নাই। দাদাও মারা গেছেন ততদিনে। দাদী বৃদ্ধা।  আমার মায়ের মুখে শুনেছি বাবা মারা যাওয়ার পর শোক ছাপিয়ে আমাদের নিয়ে এক গভীর দুশচিন্তা তাকে তাড়া করে বেড়াচ্ছিল। এদিকে আব্বা মারা যাওয়ার এক সপ্তাহের মাঝেই আম্মার সমালোচনা শুরু হয়ে যায়। সে নাকি ঠিকমতো শোক পালন করছে না।পরনে রঙিন শাড়ি তখনো! যা-ই হোক। মূল সমস্যা তখন কোথায় থাকবে সে? যারা দায়িত্ব নিতে পারত, নেওয়া উচিত ছিল, যাদের বিত্তর উৎস ছিল আমার বাবার সাহায্য তাঁরা আমাদের পরিবারের দায়িত্ব অস্বীকার করল। আত্মীয় স্বজনের পরামর্শ আসল, গ্রামে চলে যাও। জমিজমা আছে। চলে যাবে।

আমার মা ভাবলেন, গ্রামে চলে গেলে তার ছেলেমেয়েদের আর পড়াশোনা হবে না। আম্মা বললেন, উনি আব্বার চাকুরিস্থলেই (একটি জেলা শহর, সেখানে আমাদের কোনো আত্মীয় ছিল না) থাকবেন। আত্মীয়স্বজনদের তখন আক্কেলগুড়ুম। কোনো অভিভাবক ছাড়া একা এক শহরে!! শুরু হয়ে গেল চরিত্রের উপর হামলা। " যেই টাকাপয়সা পাবে সেটা ফূর্তি করবে। তাই গ্রামে আসতে চায় না। ছেলেমেয়ের পড়শোনা তো হবে না, চোর বদমাশ হবে। ছিনতাই করতে নামলো বলে ছেলেরা"!

না। আমার মা কিছুই পাত্তা দেয়নি আমাদের কথা ভেবে। আত্মীয়দের একটা বিশাল অংশ রীতিমতো আমাদের সাথে সব যোগাযোগ বন্ধ করে দিল। আমার মা স্কুল পাশের আগে বিয়ে হয়েছিল। কোনো চাকরি করা সম্ভব ছিল না।  সেই আমলে মহিলাদের কাজের সুযোগও এত ছিল না। যা-ই হোক, আমার বাবার কিছু বন্ধু পরিবারের সহায়তায় সেই অল্প কিছু টাকাকে বিভিন্নভাবে বিনিয়োগ করে আমাদের সংসার আগাতে থাকে। কিছু কিছু পরিবারের কাছে এজন্য আমরা খুবই কৃতজ্ঞ। এবং তারা কেউই আমাদের আত্মীয় নন। আমার মায়ের দৃঢ়তা এবং অবশ্যই আল্লাহর রহমতে আজ আমার বড় ভাই ডাক্তার। ছোট ভাইয়া একটা অসফল বাইপাস সার্জারির মাধ্যমে আমাদের ছেড়ে চলে গেছে। যাওয়ার আগে ও বিকম পাস করে, সিএ কোর্সটা কমপ্লিট করেছিল। আপু এখন একটা ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসার। আর আমি ডাবল মাসটার্স শেষে পি এইচ ডি করব ভাবছি।

ভাইয়া মেডিক্যাল পড়া অবস্থায় ধীরে ধীরে আত্মীয়স্বজন পুনরায় যোগাযোগ শুরু করে। এখন সবকিছুই ঠিকঠাক। কিন্তু সবকিছুই অনেক অন্যরকম হতে পারত। অনেক খারাপ হতে পারত। পড়াশোনা না জানার ফলে আমার মা যে কষ্ট পেয়েছে, আমাদের সেই আক্ষেপটা যেন না থাকে, তার জন্য আমার মা তার সাধ্যের বাইরে যেয়ে চেষ্টা করেছে!

আমি আমার মাকে কখনও লাল শাড়ি পরতে দেখি নাই। কখনও লিপস্টিক দিতে দেখি নাই। চোখে কাজল দিতে দেখি নাই। যে সমাজ সাজতে বাধ্য করে, সেই সমাজই আবার বাঁকা চোখে তাকাবে আমার মায়ের সাজ দেখলে। আমার মা আমাদের জন্য সেই রিস্ক নিতে চায়নি।

বাবা মারা যাওয়ার সপ্তাহখানেক আগে নাকি আম্মা আবদার করেছিল কিছু নতুন শাড়ী কিনে দেওয়ার। বাবা নাকি সবসময় টালবাহানা করত। কিন্তু সেবার করে নাই। বলেছিল, ঠিক আছে, টাকা দিব, নিয়ে এসো। আমার মা অবাকই হয়েছিল। কী হল মানুষটার? সে টাকা আর বাবার দেওয়া হয়নি। একথা গুলো আসলে কান পেতে শোনা। যখন আম্মা অন্য কারও সাথে গল্প করছে। আমার মা আমাকে এই গল্পগুলো শোনায় না।

আমার মাকে প্রায় এক যুগেরও বেশি অপেক্ষা করতে হয়েছে সেই শাড়ী কেনার জন্য। নিতান্তই সুতির শাড়ী ছাড়া কখনো দেখি নাই নিজের জন্য একটা শাড়ি কিনেছে। না, ঈদ এও না। আর সাজসজ্জা তো সমাজ থেকেই নিষিদ্ধ।

আমার মাঝে মাঝে মনে হয় যদি আমার বাবা বেঁচে থাকতো, তাহলেও হয়ত আমি এত স্বাধীন, সাবলম্বী জীবন পেতাম না। আমার জন্ম ছাড়া, আমার জীবনে আমার বাবার কোনো ভুমিকা নাই। (যদিও আমার মা ভিন্ন কথা বলে। আম্মা বলে, আব্বা একজন সৎ চাকুরিজীবী ছিলেন দেখেই আমরা মানুষ হয়েছি। অসৎ হয়ে অনেক টাকা পয়সা রেখে গেলে উলটা হইত! )

একটা পরিবারে সন্তান অস্বাভাবিক কিছু করলে মায়ের উপর হামলে পড়ে সমাজ। আমার মা তো এক অর্থে সিঙ্গেল মা-ই ছিলেন। কিন্তু তাঁর কথা কোনো পত্রিকা বলবে না। সমাজ স্বীকৃতি দিবে না। ভাবটা এমন... করারই তো কথা!!! আসুন আমরা মাদের, তাদের ত্যাগ আর একটু গভীরভাবে বিশ্লেষণ করি। এই গল্পটা শুধু সামাজিক আর অর্থনৈতিক সংঘাতের ক্ষুদ্র নমুনা। একজন সিঙ্গেল মা হিসেবে কিভাবে ঊনি নিজের ব্যক্তিত্বকে নতুন মোড়কে সাজিয়েছিলেন, সন্তানদের বাবার অভাব ভুলতে সাহায্য করেছিলেন, প্রতিটা সন্তান হোঁচট খাওয়ার পর একা কীভাবে সামলেছেন , হাত ধরে তুলেছেন, সে গল্প সুযোগ পেলে অন্য কখনো বলব।

আমার মা খুব ঘুরতে পছন্দ করে, এটা বছরখানেক হল জানতে পেরেছি। আগে তো সুযোগ আর সামর্থ্য কোনোটাই ছিল না। এখন আমি সারাক্ষণ প্রার্থনা করি, আমি যেন আম্মাকে পৃথিবী দেখানোর সুযোগ পাই।

ধন্যবাদ এতটা সময় নিয়ে পড়ার জন্য। ভাল থাকবেন।


ছবির সূত্র: http://myblog.rocks/nature-always-finds-a-way-never-give-up/

একজন মানুষের গল্প

Wednesday, October 30, 2013

আমার বিয়ে ভেঙেছে অনেকদিন হলো, কাগজে কলমে যদিও বছরখানেক মাত্র। বিয়ে ভাঙার কারণ অনেকে জানতে চায়, বেশিরভাগকেই যেইটা বোঝাতে পারি না সেই কথাটা মনে হয় এখানে অনেকে বুঝবেন। ছোটবেলা থেকে নিজেকে আলাদা করে মেয়ে হিসেবে কখনো দেখিনি, বিয়ের পরে সেই কথাটা রোজ মনে পড়ে যেত, আর দম বন্ধ হয়ে আসত। আমার যে পার্টনার ছিলো মানুষ হিসেবে সে নেহায়েতই ভালো মানুষ ছিলো, কিন্তু ভুল ছিলো একে অন্যকে বোঝায়। আমার ভালোবাসার মানুষের জন্যে আমি অনেকদূর যেতে পারি, এটুকু দেখে সে ভেবে নিয়েছিলো নিজেকেও পালটে একটা মেয়েমাত্র বানিয়ে নেবো। যেহেতু সমাজ বলেছে, তাই আমি মেয়ে বলে আমাকেই বাবা মা ছেড়ে যেতে হবে, আমার পার্টনারকে তার বাবার বাড়ি ছাড়তে বললে আমি মহা শয়তান আর পাজি মেয়ে, আর আমাকে যে ছাড়তে হলো বাবামা-ভাইবোন, সেইটা শুধু সমাজস্বীকৃত বলে ঠিক জিনিস এইরকম হিপোক্রিসি আমি নিতে পারতাম না। শ্বশুরবাড়িতে চুপচাপ থাকতাম কারণ আমি কথা বলিও কম, আর যা কথা বলার মতো সেইটা সমমনাদের সাথে হয়, অন্যদের সাথে বেয়াদবি না করে চুপ থাকলেও সমস্যা। কারো সাথে খারাপ ব্যবহার কদাচ করি না, কিন্তু খামোখাই গায়ে পড়ে যেই ভালোবাসা নাই সেইটা দেখাতেও যাই নাই। খালি বিয়ে হয়েছে বলেই তো জোর করে নতুন কিছু মানুষকে দুইদিনে ভালোবেসে ফেলা যায় না, সেইটা সময়ের ব্যাপার, ইন্টার‍্যাকশান বাড়তে বাড়তে হয়। সেই সময় পাওয়ার আগেই শীতল মানুষের মর্যাদা পেয়ে ফেলেছিলাম, সেইসাথে আমার গল্পের বই পড়ার আগ্রহ আর মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানীর চাকরির বদৌলতে অহংকারী খেতাবও। রাত দশটা পর্যন্ত অফিস করেও ঘরে কাজের লোক রাখার অনুমতি পাইনি, যদিও তখন আমার নিজেরই অন্তত পাঁচটে কাজের লোক রাখার ক্ষমতা আছে। আর ক্লান্ত শরীরে ঘর গোছানো হয়নি বলে রোজ খোঁটা, বাবার অর্থনৈতিক স্ট্যাটাসের বলে পরোক্ষে নবাবজাদী খোঁটাও শুনেছি।

আমার এক্সপেকটেশানে ভুল ছিলো পার্টনারকে নিয়ে, ভেবেছিলেম এত প্রগতিশীল মানুষটা বুঝি আমাকে আমি হিসেবেই বেছে নিয়েছিলো। ভুলটা দুই তরফেই, সে ভেবেছিলো আমি ঘরোয়া হবো, আমি ভেবেছিলাম সে আমার জন্যে সব করতে পারে। আমি যে তার জন্যে আমার পরিবার ছেড়েছি সেইটা সামাজিক প্রথা, আর সে জানান দিত সে আমাকে অনেক বেশি ভালোবাসত, অথচ আমাকে নিজের একটা ঘর দেওয়ার সামর্থ্য ছিলো না তার। রান্নাবান্নার কি ভীষণ শখ আমার ছিলো, অথচ নিজের একটা কিচেন পর্যন্ত ছিলো না। এইটা স্বাভাবিক মনে করতে পারিনি আমি। আর শ্বশুরবাড়িতে গাদাগাদা লোকের ভিড়ে, পরীক্ষার গার্ড দেওয়ার মতো মানুষদের চোখের সামনে নার্ভাস হয়ে রান্না করাটা আমার কাছে কখনোই আনন্দদায়ক মনে হয়নি। তাও আবার কিছু রান্না করতে হলেই সেইটা কমপক্ষে বিশ জনের জন্য করতে হতো। শখের কিছু রান্না করলেও সেইটা অপচয়। আমার আলাদা করে শ্বশুরবাড়ির কাউকে নিয়ে কোনো অভিযোগ নাই, কারণ তারা আসলে খুবই টিপিক্যাল অর্খে যা যেভাবে হয়ে আসছে সেইটাই এক্সপেক্ট করে আসছে, কিন্তু যা হয়ে আসছে তাই যে একমাত্র সঠিক বস্তু না, সেইটা কি কেউ টের পায় না? বউ মাত্রেই সুশীল, সুন্দরী, সেবাদানকারী মেশিন না এইটাও কি কেউ ভাবে না?

যাই হোক বিয়ে ভাঙার পরে আত্মীয়-স্বজন-বন্ধু-বান্ধবদের আহাউহুতে মনে হয়েছিলো কয়দিন আমার জীবন মনে হয় এইখানেই শেষ। বিরক্ত হয়ে বেশিরভাগ গ্যাদারিংয়ে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছি। আমার তো নিজেকে কষ্টে থাকা বেচারী মনে হয় না। আবার বিয়ের কথা শুনলে বরং বিরক্ত লাগে। কখনো ইচ্ছে হলে করবো, বাবা-মা-কে এতোদূর বলেছি। ভাগ্যিস আমার বাবা-মা এইটা নিয়ে ত্যানা প্যাঁচায় না। ডিভোর্সী বলে বাসায় কখনো কোনো ছেলে বন্ধু বা আত্মীয় এলে বাড়িওয়ালী সেইটা রিচেক করতে আসে। বাংলাদেশের মানুষ কেন জানি এখনও এক ঘরে ছেলে মেয়ে থাকা মানেই আগুন-ঘি পাশে থাকার মতো ভালগার ধারণা নিয়ে বসে আছে। প্রথমত দুইজন অ্যাডাল্ট কমিটেড বা নন-কমিটেড মানুষ কী করবে সেইটা তাদের ব্যাপার। আর ছেলেমেয়ে একসাথে থাকলেই তারা কেবল ফিজিক্যাল কোনো সম্পর্কে যাবে এর চেয়ে অখাদ্য ধারণা আর নাই। অসলোতে আর লন্ডনে থাকাকালীন কাজের জন্য, পড়ার জন্যে কতবার ছেলে বন্ধুদের বাসায় স্টে ওভার করেছি। সেইসব বন্ধুরাও কোনদিন বন্ধুত্বের সীমানা মাড়ায় নি, আর অন্য কারো গায়েও লাগেনি।

দেশ ছেড়ে যেতে ইচ্ছে করে না। কিন্তু যখন বিলাতের বা নরওয়ের দিনগুলা মনে পড়ে যখন আমি দিনে-দুপুরে-রাতে-বিরাতে ঘুরতে যেতাম, নিজের মতো করে নিজের ঘরে থাকতাম, সেই স্বাধীনতার জন্যে আবারো চলে যেতে ইচ্ছে করে। আমার এমনিতে পশ্চিমা বিলাস নাই, খালি নিজের জন্য বেঁচে থাকার ইচ্ছেটা আছে। জীবন নিয়ে আলাদা কোনো অভিযোগও নাই, খালি যখন মনে হয় নিজের জীবনের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাত থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে, একমাত্র তখন অসহায় লাগে। ফেসবুকে, অনলাইনে নানারকম মানুষের মেয়ে সংক্রান্ত মতামত দেখে মাঝে মাঝে টের পাই যতই মানুষ হয়ে উঠতে চাই না কেন, এই মেয়ে হয়ে থাকার ট্যাগটা অনেক সহজে যাবে না বোধহয়। এই মানুষগুলা নিজেদের অসুস্থতা আর অসংগতি কেন টের পায় না?

জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি- ২০১১ (by Maksuda Aziz)


1      বাংলাদেশ এমন একটি দেশ যা সব ক্ষেত্রে পিছনের দিক দিয়ে ১ম দশটি দেশের তালিকায় থাকে। ওয়ার্ল্ড র‍্যাংকিং এ কখনও যদি বাংলাদেশ শুরুতে অবস্থান করে তবে সেটা অবশ্যই আশংকাজনক কিছু হয়। Millennium Development Goals (MDGs) এ ২টা ক্ষেত্রে নারীকে লক্ষ্য করে নেয়া হয়েছে। MDG-3: Promoting gender equality and empowering women এবং MDG-5: Improving maternal health.

মনে রাখবেন এই নীতি জাতিসংঘের ১৯৩টি দেশকে লক্ষ্য করেই নেয়া হয়েছে, এবং ভাববার বিষয় হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে উন্নত দেশেও নারী খুব ভাল অবস্থানে নেই। সবখানেই নারীকে পিছন থেকে ধরে রাখা হয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর নারীদের একজন হিলারি ক্লিন্টন। তিনি তার আত্মজীবনী Living History তে লিখেছেন,
Too many women
in too many countries
speak the same language,
of silence...


আশার কথা হচ্ছে বাংলাদেশ নামক দেশটি MDG পূরণে অন্য অনেক দেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে। এখানে সরকার এবং জনগন উভয়ই নারীর ক্ষমতায়ন ব্যাপারটাইয় যথেষ্ট উদার। আমার মতে জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি তারই একটি প্রমাণ। এখানে আমি যেটা বিশেষভাবে উল্লেখ করতে চাই নারীনীতি প্রকাশ পাবার পরি তা নানা ভাবে misinterpreted হয়েছে। একটি মাত্র ধারা যেখানে বলা ছিলঃ
 এ ধারাটি অনেকে নিজেদের মত ব্যাখ্যা করেন এবং সাধারণ জনগনকে এমন একটি ধারণা দেন যে নারীকে ইসলামিক শরিয়া আইন ভংগ করে পুরুষের অর্ধেক সম্পদের ভাগ দেয়া না হয়ে পুরুষের সমান ভাগ দেয়া হবে যেখানে থেকে আসলে সকল সমস্যার শুরু হয়।

আইনের ভাষা সাধারনত সকলের বোধগাম্য হয় না ফলে অপব্যাখ্যা করা খুব সোজা। উপরের ২৫।২ ধারাটি ব্যাখ্যা করলে দাঁড়ায় একটি মেয়ে তার উপার্জন, উত্তরাধিকার, ঋণ ইত্যাদি যে কোন ক্ষেত্র থেকে যতটুকু অর্থই অর্জন করে থাকুক না কেন তার নিয়ন্ত্রন আইনের মাধ্যমে তার নিজের কাছে থাকবে
ব্যাপারটা আরও খোলাসা করে ব্যাখ্যা করলে এমন দাঁড়ায় যে, ধরুন আপনি বাবার বাড়ি থেকে ভাইয়ের অর্ধেক সম্পদ (শরিয়া মোতাবেক) পেয়েছেন এই সম্পদে খচর, বিনিয়োগ, দান ইত্যাদির অধিকার পুরাই আপনার। আপনি আপনার টাকা আপনার হাতে থাকবে আপনার ভাই বা স্বামীর হাতে নয় এবং সে টাকা আপনি কী করবেন সেই সিদ্ধান্তও আপনার আপনার ভাই স্বামী বা পুত্রের নয়।
এখন প্রশ্ন হল আপনার টাকার নিয়ন্ত্রন তো আপনিই করবেন এটা আবার আইনে বলার কী আছে? উত্তর হচ্ছে অবশ্যই আছে কারণ  বাংলাদেশে কয়জন মেয়ে বাবার বাড়ির অর্ধেক সম্পত্তি সত্যিকারী অর্থে ভাইদের হাত থেকে নিজের হাতে আনতে পারে আর আনলেও তা কয়জন নিজে খরচের অধিকার রাখে? একই কথা দেনমোহরের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। দেনমোহর আপনার অধিকার। কয়জন মেয়ে দেন মোহরের অর্থ হাতে পায়? পেলেও সেটা গহনা হিসাবে পায় এবং সেটার নিয়ন্ত্রনও থাকে অন্যের হাতে
এমন অবস্থায় যেখানে উত্তরাধিকারই ঠিক মত হাতে আসে না সেখানে উপার্জন, ঋণ ইত্যাদির নিয়ন্ত্রন পাবার প্রশ্নই আসে না। নারী শুধুই একটা কাঠের পুতুল হয়ে থাকে।

আগেই সমালোচনা নিয়ে আলোচনা করে ফেললাম এখন আসুন আগে এই নীতির লক্ষ্যগুলো সম্পর্কে জানিঃ
1.     বাংলাদেশ সংবিধানের আলোকে রাষ্ট্রীয় ও গণজীবনের সকল ক্ষেত্রে নারী পুরুষের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।
2.     রাষ্ট্রীয়, সামাজিক ও পারিবারিক জীবনের সকল ক্ষেত্রে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
3.    নারীর অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক, প্রশাসনিক ও আইনগত ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা।
4.     নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করা।
5.    আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের মূল ধারায় নারীর পূর্ণ ও সম অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
6.    নারীকে শিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদ রূপে গড়ে তোলা।
7.     নারী সমাজকে দারিদ্র্যের অভিশাপ থেকে মুক্ত করা।
8.    নারী পুরুষের বিদ্যমান বৈষম্য নিরসন করা।
9.    সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিমন্ডলে নারীর অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি প্রদান করা।
10.  নারী ও কন্যা শিশুর প্রতি সকল প্রকার নির্যাতন দূর করা।
11.   নারী ও কন্যা শিশুর প্রতি বৈষম্য দূর করা।
12.   রাজনীতি, প্রশাসন ও অন্যান্য কর্মক্ষেত্রে, আর্থ-সামাজিক কর্মকান্ড, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া এবং পারিবারিক জীবনের সর্বত্র নারী পুরুষের সমানাধিকার প্রতিষ্ঠা করা।
13.  নারীর স্বার্থের অনুকূল প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও আমদানী করা এবং নারীর স্বার্থ বিরোধী প্রযুক্তির ব্যবহার নিষিদ্ধ করা।
14.   নারীর সুস্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করা।
15.  নারীর জন্য উপযুক্ত আশ্রয় এবং গৃহায়ন ব্যবস্থায় নারীর অগ্রাধিকার নিশ্চিত করা।
16.   প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সশস্ত্র সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত নারীর পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা।
17.   প্রতিবন্ধী নারী, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি নারীর অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সার্বিক সহায়তা প্রদান করা।
18.  বিধবা, বয়স্ক, অভিভাবকহীন, স্বামী পরিত্যাক্তা, অবিবাহিত ও সন্তানহীন নারীর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা।
19.  গণ মাধ্যমে নারী ও কন্যা শিশুর ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরা সহ জেন্ডার প্রেক্ষিত প্রতিফলিত করা।
20.   মেধাবী ও প্রতিভাময়ী নারীর সৃজনশীল ক্ষমতা বিকাশে সহায়তা করা।
21.  নারী উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহায়ক সেবা প্রদান করা।
22.  নারী উদ্যোক্তাদের বিকাশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সার্বিক সহায়তা প্রদান করা।

(June 20, 2013)

নেমেসিসের গল্প

Sunday, July 7, 2013



"ক"
আমি তখন ক্লাস সেভেনে। বয়সের তুলনায় দেখতে ছোট ছিলাম। সেক্সুয়াল জ্ঞানও ছিলো না কোনো। দেখতে ছোটখাটো হওয়ায় আঙ্কেল-আন্টিদের কোলে উঠতাম তখনো। এক মধ্যবয়স পেরুনো ভদ্রলোকতার সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করেছিলো। বিভিন্ন গল্প বলে আমাকে ভুলিয়ে রাখার চেষ্টা করছিলো যাতে আমি বুঝতে না পারি যে সে আমার শরীরের সাথে কিছু একটা করার চেষ্টা করছে। আমার দুই পা তার পায়ের দুপাশে ঝুলিয়ে গল্প করছিলো আর পেনিট্রেশনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলো। শুরুতে কোলে নেওয়ার ভঙ্গিটা আমার অদ্ভুত লাগলেও গল্প করতে করতে ভুলে গেছিলাম। বাড়ির সবাই তখন ভাতঘুমে। গল্প করতে করতে হঠাৎ অনুভব করলাম আমার দুই পায়ের ফাঁকে শক্ত কিছু একটা বাড়ি খাচ্ছে। একটু অবাক হলাম এই ভেবে যে লোকটার লুঙ্গির নিচে শক্ত কী থাকতে পারে! এরপরই টের পেলাম চাপ বাড়ছে। কোথা থেকে যেন একরাশ ভয় এসে ভর করল মনে। জানি না লাখ লাখ বছরের human instinct কি না, মাথার মধ্যে কে যেন চাপা স্বরে বললো, “এই মেয়ে, পালাও!আমি এক ঝটকায় কোল থেকে নামলাম। সে আমার হাত শক্ত করে ধরে রেখেছিলো। অন্য হাত দিয়ে সেই হাতটা ছুটিয়ে দৌড় দিয়ে আমার পড়ার ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিলাম। এরপর এক মাস ঘুমাতে পারিনি। ওই ঘটনার কারণেই যে ঘুমাতে পারছি না তা মানতে দিচ্ছিলো না মন। শুধু বুঝতাম আমার মাঝে একরাশ ভয়। আম্মু ঘুমানোর সময় আলো নেভাতে এলে কান্না শুরু করে দিতাম। সবাই ঘুমিয়ে পড়লে আব্বু-আম্মুর রুমে গিয়ে মেঝেতে বসে চুপচাপ কাঁদতাম। মনে হতো, সবাই ঘুমাচ্ছে, আমি কেন ঘুমাতে পারছি না। টের পেলাম মাসখানেক পর যখন লোকটাকে আবার দেখলাম তখন। ভয়ে কুঁকড়ে যাচ্ছিলাম। বুঝলাম এটাই সেই ভয় যা আমাকে তাড়া করে ফিরছে। কিন্তু ভয়টা যে কীসের জন্য তাও বুঝতে পারছিলাম না। কারণ পেনিট্রেশন সম্পর্কে আমার কোনোই ধারণা ছিলো না। কাউকে কোনোদিন কিছু বলিনি। ভয় হচ্ছিলো আমাকে হয়ত বকা দেবে বা আমার কথা হয়ত বিশ্বাস করবে না। এরপর সময়ের সাথে সাথে অনেক স্মৃতির ভারে এই স্মৃতি চাপা পড়ে গেল। কলেজে গিয়ে বান্ধবীদের সাথে বাঁদরামোর ছলে শারীরিক সম্পর্কের ব্যাপারে ধারণা পেলাম। তখন বুঝলাম কী হতে যাচ্ছিলো আমার সাথে। কিন্তু সেই ভয়, খারাপ লাগা ততদিনে মিলিয়ে গেছে। যেন বইয়ের পাতায় পরা অন্য কারো জীবনের গল্প, যা নিয়ে আমার মধ্যে কোনোই অনুভূতি অবশিষ্ট নেই আর।

তবে আমার স্বভাবে তা প্রভাব ফেলল। সেই প্রভাব ছায়াবিস্তার করল আমার পরবর্তী জীবনেও। বিবাহবহির্ভূত যেকোনো শারীরিক ব্যাপারকে প্রবলভাবে ঘৃণা করতে শুরু করলাম। কারণ যৌনতা আমার কাছে একটা কষ্টের নাম। আরেকটু বড় হয়ে বিশ্বাস করতে লাগলাম যে শুধু বিবাহবহির্ভূত না, বরং যেকোনো ভালোবাসাহীন শারীরিক সম্পর্কই প্রচণ্ড ঘৃণ্য। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে হলেও। কিছুটা পুরুষবিদ্বেষীও হয়ে উঠলাম। তবে সময়ের সাথে সাথে এই বিতৃষ্ণা কমেও এলো। আমি ভালোবাসলাম। সে মিথ্যা বললো, শারীরিক সম্পর্কের জন্য চাপ দিলো, সরে এলাম। আবারো ভালোবাসলাম। এবার সবকিছু উজাড় করে। Went to second base before marriage without feeling bad. In fact it felt wonderful. I was completely cured of my past. Or so I thought...

"খ"
আমার নতুন বিয়ে। দুবছরের প্রেম ছিলো। শ্বশুর-শাশুড়ি ভীষণ ধার্মিক। দুজনেই খুব হাসিখুশি। শাশুড়ির প্রতি শ্বশুরের অগাধ ভালোবাসা। সন্তানদের অতি আদরে মানুষ করেছেন। সবকিছু মিলে সুখী পরিবার। আমি বড় হয়েছি আম্মুর শাসনের সংসারে। আদিখ্যেতায় আমরা অভ্যস্ত না। নিজেদের কাজ আর ত্যাগের মধ্যে দিয়ে পরস্পরের পরি ভালোবাসা প্রকাশ করতে শিখেছি আমরা। কোনোদিন বাবা-মাকে জড়িয়ে ধরেছি বলে মনে পড়ে না। এদিকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন সারাক্ষণই পরস্পরকে জড়িয়ে ধরছে, চুমু খাচ্ছে। আমার অনভ্যস্ত চোখে এগুলো বাড়াবাড়ি ঠেকে (শুধু আমার না, আরো অনেকেরই)। শুরুতে আমাকেও যখনতখন জড়িয়ে ধরত, চুমু খেত। আমি অস্বস্তি বোধ করতাম। কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবো বুঝে পেতাম না। এমনকি মেয়েরা ছুঁলেও। আমার বর ছাড়া কারো স্পর্শ সহ্য করতে পারতাম না। এখনো পারি না। তাদের এই জড়িয়ে ধরা কমে এলো। আমিও হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম (উল্লেখ্য, আমার শ্বশুর কখনো জড়িয়ে ধরেননি আমাকে)।

শ্বশুরবাড়িতেই থাকি বেশিরভাগ সময়। ছোটবড় এটাওটা সমস্যা মিলিয়ে দিন কেটে যাচ্ছিলো। শ্বশুরবাড়ির সবার সাথে দূরত্ব বজায় রেখে চলতাম বিভিন্ন কারণে। একদমই নিজের মতো দিন কাটাতাম। তারাও বাধা দেননি কখনো।

কিছুদিন আগের কথা। অফিসে জরুরি কাজ। তাড়াহুড়া করে বের হয়ে যাচ্ছিলাম। বাসায় শ্বশুর ছাড়া আর কেউ ছিলো না। বের হওয়ার পথে আমাকে আটকালেন- "মা, তোমাকে না খেয়ে যেতে দিবো না।" জোর করে খেতে বসালেন। নিজে খাবার বেড়ে বসে থেকে পুরোটা খাওয়ালেন। আমি অবাক। হাসিও পাচ্ছিলো উনার ছেলেমানুষি দেখে। খাওয়াশেষে বের হওয়ার সময় বললেন, "মা, আমাকে ছুঁয়ে প্রমিজ করো কখনো আর না খেয়ে অফিসে যাবা না।" আমি হেসে উনার হাত ছুঁতেই উনি টান দিয়ে আমাকে নিজের কোলে বসিয়ে জড়িয়ে ধরলেন। জোরে চাপ দিয়ে বলতে লাগলেন, "মা, আমার মেয়ে তুমি। ছেলের বউ না। তোমার হাসিমুখটা ছাড়া আমার আর কিছু লাগবে না। এই বুড়া বাবাকে আর কষ্ট দিবা না। প্রতিদিন খাওয়াদাওয়া করবা ঠিকমতো।" আমার চোখে পানি চলে এলো। এই লোকটার মনে আমার জন্য এত ভালোবাসা ছিলো আমি কোনোদিন বুঝতেও পারিনি। উনার কপালে চুমু দিয়ে কথা দিলাম আর কখনো কষ্ট দিবো না, যা বলবে তা-ই শুনব। উনার স্নেহ দেখে মনে হচ্ছিলো আমি ছোট্ট একটা মেয়ে আর উনি আমার পর্বতসম বাবা, আপন বাবা। একদমই অস্বস্তি লাগেনি। ভীষণ ভালো লেগেছিলো। সবাইকে বলে বেড়ালাম আমার শ্বশুর আমাকে কত্ত ভালোবাসে।

"গ"
গত সপ্তাহের কথা। সকালে প্রতিদিনের মতো আমার ঘুম ভাঙাতে শ্বশুর-শাশুড়ি আমার দরজায় ধাক্কা দিচ্ছিলেন। আমি চমকে উঠে দরজা ফাঁক করে দেখি শ্বশুর দাঁড়ানো। জিজ্ঞেস করলান অফিসে কখন যাবো। উত্তর দিলাম। তারপর আরো এটাসেটা বললেন। এক পর্যায়ে আমি হেসে বললাম, "বাবা, এত জোরে দরজায় ধাক্কা দিয়েন না তো। আমি চমকে উঠে ভয় পাইসি। এখনো বুক ধড়ফড় করতেসে।"
"আহারে, মা! তোমাকে ভয় দেখাইসি। সরি, মা!" বলতে বলতে আমার ফাঁক করা দরজা দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে পড়লেন। আমি একটা নাইট গাউন পরে ছিলাম। ঘুমের মধ্যে গাউনের ফিতা খুলে গিয়ে গাউন আলগা হয়ে ছিলো। আমার ঘরে সচরাচর কেউ ঢোকে না। টুকিটাকি কথাবার্তা দরজার ফাঁক দিয়েই সারা হয়। তাই ওড়না না পরেই দরজা খুলেছিলাম। উনি ঢুকেই দরজা বন্ধ করে আমাকে জড়িয়ে ধরলেন।
"মা, তুমি আমার মেয়ে তো। ছেলের বউ না। তোমাকে কত আদর করি। আমি তো তোমার বাবা, তাই না? বলো তো আমি তোমার কে?"
হেসে বললাম, "বাবা"
"কার বাবা?"
"আমার বাবা"
"তুমি আমার সোনা মেয়ে, আমার লক্ষ্মী মেয়ে।"
বলতে বলতে আমাকে জড়িয়ে ধরে তুলে ফেললেন উনি। আমি উনার পাগলামি দেখে হাসছিলাম খুব। বলছিলাম, "বাবা, আপনি একটা পাগল!"
জিজ্ঞেস করলেন, "মা, খেয়ে যাবা তো?"
আমি বললাম, "হ্যাঁ, আপনি যান। আমি রেডি হয়ে আসছি।"
"ঠিক আছে, মা। আমি যে কত খুশি হইসি তোমার প্রতি! আমি তোমাকে এখন আবার একদম ঘুম পারায়ে দিয়ে যাবো। আমার মাকে আমি ঘুম পাড়ায়ে দিবো।"
বলতে বলতে আমাকে একদম পাঁজাকোলা করে তুলে নিলেন। আমি তখনো হাসছি উনার ছেলেমানুষি দেখে। আমাকে কোলে করে বিছানায় শুইয়ে দিলেন। তারপর পাশে বসে সোজা আমার বুকে হাত রাখলেন। বললেন, "মা, আমার মেয়ে নাই। তুমিই আমার মেয়ে। তোমাকে আমি যখন ইচ্ছা অনেক আদর করব। তুমিও তোমার এই বুড়া বাবাটাকে আদর করে দিবা, ঠিক আছে?" আমি প্রচণ্ড অস্বস্তি নিয়ে তার হাত প্রায় টেনে সরিয়ে নিলাম বুকের ওপর থেকে। বললাম, "জ্বি, বাবা। আপনি এখন যান। আমি রেডি হবো।"
সাথে সাথে উনি সরাসরি আমার ডান স্তনের ওপর হাত রাখলেন। আরো কী কী জানি বলছিলেন। আমার কান দিয়ে আর কিছু ঢুকছিলো না। শুধু মনে আছে আমি বারবার মাথা নাড়ছি, "হ্যাঁ বাবা, জ্বি বাবা" বলছি, বুক আর শরীরের বিভিন্ন জায়গা থেকে তার হাত সরিয়ে দিচ্ছি বারবার। তার এক হাত আমার মাথায়, আরেক হাত যখন যেখানে ইচ্ছা রাখছে আর কথা বলছে। আমি কী কী জানি বলছিলাম। এক পর্যায়ে আমাকে আবার টেনে বিছানায় বসিয়ে জড়িয়ে ধরলেন। তার জড়াজড়িতে আমার গাউনের এক অংশ সরে গিয়ে ডান ঊরু উন্মুক্ত হয়ে পড়ল। আমি কাপড় টেনে আনতে চেষ্টা করলে উনি বাধা দিলেন। আমি জোর করে উনাকে সরিয়ে দিয়ে পাশে পড়ে থাকা কাঁথাটা গায়ে পুরোপুরি জড়িয়ে নিয়ে কুঁকড়ে গেলাম। উনি বোধ হয় ততক্ষণে বুঝে গেছেন যে এর বেশি আগানো যাবে না। পুরোটা ঘটল ৩০-৪০ সেকেন্ডের মধ্যে। ততক্ষণে উনি ৩-৪ বার আমার স্তনে হাত দিয়েছেন। একবার হালকা চাপ দিয়েছেন। উনি যখন চলে যাচ্ছিলেন তখন টের পেলাম আমার বুকের কাপড় সরে গিয়ে প্রায় নগ্ন আমি। বুকের দিকে না তাকিয়েই কাপড়টা টেনে নিলাম। দরজা বন্ধ করে লক করে দিলাম।

"ঘ"
দরজা বন্ধ করে স্তব্ধ হয়ে ছিলাম কিছুক্ষণ। এটা কী হলো? আমার অবচেতন মনে চাপা পড়ে থাকা শৈশবের সেই স্মৃতি এবার জলজ্যান্ত হয়ে আমার ভেতরটা নাড়িয়ে তুলল। ক্লাস সেভেনের সেই ঘটনা মনে করে হাউমাউ করে কাঁদলে লাগলাম আমি। একটু আগে যা হয়ে গেল সেটাই বরং অনেক দূরের কোনো ঘটনা মনে হচ্ছিলো। কাঁপতে কাঁপতে কোনোমতে গোসল করে ছুটে বের হলাম বাসা থেকে। পুরোটা পথ শুধু নিজেকে প্রবোধ দিয়ে গেলাম- আসলে কিছুই হয়নি। ছোটবেলার সেই ঘটনা আর আমার অনভ্যস্ততার কারণেই উনার বাবাসুলভ স্নেহের বাড়াবাড়ি নিয়ে এমনটা লাগছে আমার। নিজেকে বুঝাচ্ছিলাম আর কাঁদছিলাম। যত যা-ই বোঝাই নিজেকে, মন তো মানে না। বুকে কেন হাত দেবে? হাত বারবার সরিয়ে দেওয়ার পরেও? এটুকু বোধ কেন থাকবে না উনার? মেয়ে নেই বলে কি মেয়েকে আদর করার সীমাটুকুও জানবে না? নাকি পুরোটাই ইচ্ছাকৃত? তাকে যতটুকু চিনেছি, তাতে সেটা বিশ্বাস করা কষ্টকর। কিছুতেই মেলাতে পারছিলাম না। অফিসের কাজে ভুল করছিলাম আর ঝাড়ি খাচ্ছিলাম। একটু পরপর ওয়াশরুমে গিয়ে কাঁদছিলাম। হঠাৎ মনে হলো উনি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে না করে থাকেন, উনি কি আমার হাজবেন্ড বা শাশুড়ির সামনে ওই আচরণ করতে পারবেন? উত্তর হলো- "না"।
এবার আমি পুরোপুরি ভেঙে পড়লাম। আমার হাজবেন্ড তখন ঢাকায় নেই। তার ফোনও নষ্ট কদিন ধরে। ওর সাথে যোগাযোগ করতে পারছিলাম না। আর ওকে বলবই না কীভাবে?
সারাদিন নিজের সাথে লড়ে সন্ধ্যায় বাসায় ফোন করে জেনে নিলাম শাশুড়ি বাসায় কি না। তারপর ঘরে ঢুকলাম। ঢুকেই দরজা বন্ধ করে দিলাম। কীভাবে দুই ঘণ্টা কেটে গেল জানি না। হাজবেন্ডের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম। এর মধ্যে শাশুড়ি এসে আমার খো৬জ নেওয়ার চেষ্টা করলেন। আমি ভীষণ খারাপ ব্যবহার করে তাড়িয়ে দিলাম তাকে। তারপর শ্বশুর-শাশুড়ি মিলে আমাকে শান্ত করতে এলেন।
"মা, কী হইসে আমাদের বলো। তুমি না বললে আমরা কীভাবে বুঝব?"
শ্বশুর এত ভদ্রভাবে মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছিলেন যে আমি সব ভুলে গেলাম। মনে হলো আসলে কিছুই হয়নি। ছোটবেলার অভজ্ঞতার কারণেই আমার মানসিক সমস্যা থেকে এই খারাপ লাগা। বুড়ো মানুষ। না বুঝে সীমা লংঘন করেছে। আমি সাথে সাথে শান্ত হয়ে গেলাম। উনাদের বললাম যে তেমন কিছু না, হাজবেন্ডের সাথে ঝগড়া। শ্বশুর আমাকে মিষ্টি কাহিয়ে দিলেন। "মেয়েটা মন খারাপ করে না খেয়ে বসে আছে কখন থেকে!"
ততক্ষণে আমি নিজেকে পুরোপুরি বুঝিয়ে ফেলেছি যে শ্বশুর নির্দোষ। আমারই মানসিক সমস্যা।

কিছুক্ষণ পর শাশুড়ি রান্না করতে চলে গেলেন। আমি শ্বশুর-শাশুড়ির রুমে। শ্বশুর আমাকে সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন।
"মা, আমার ছেলে যদি তোমাকে কষ্ট দেয় তো দরকার হলে ওকে আমি ত্যাজ্য ঘোষণা করব। তবু তোমার কোনো কষ্ট হতে দেবো না। তোমার মতো মেয়ে পেয়েছে সেটা যে ওর কত বড় ভাগ্য ও কী জানে?"
আমি হাসলাম। মন একদম ভালো হয়ে গেল।
একটু পর উনি বললেন, "চলো, মা। তোমার রুমে গিয়ে গল্প করি।"
শোনামাত্র আমি কাঠ হয়ে গেলাম। বুঝলাম কেন অন্য রুমে যেতে বলছে। কারণ তার রুমের দরজা এখন সবার সামনে বন্ধ করা সম্ভব না। আর রুম থেকে ডাইনিং দেখা যাচ্ছিলো যেখানে একজন গেস্ট খাচ্ছিলো। আমি বললাম, "বাবা, এখানেই গল্প করি।"
উনি বললেন, "না, তোমার রুমে চলো।"
বলে উনি উঠে গেলেন।
আমার মাথায় তখন ভাবনা এলো- এটা কি আসলেই আমার মানসিক সমস্যা বা সন্দেহবাতিক? আমাকে জানতে হবে। নিজের রুমে ঢোকার সময় ইচ্ছে করে দরজাটা পুরোপুরি খুলে নিচের ম্যাগনেটের সাথে আটকে দিলাম যাতে উনি "accidentally" দরজা বন্ধ করতে না পারেন। দরজা বন্ধ করতে হলে উনাকে টান দিয়ে ম্যাগনেট থেকে দরজাটা ছোটাতে হবে। লাইট জ্বালিয়ে বিছানায় গিয়ে চুপচাপ বসলাম। উনি পাশে এসে বসলেন। দুতিন মিনিট পর কী অজুহাতে যেন ডাইনিংয়ে গেলেন। আবার রুমে ঢোকার সময় টান দিয়ে দরজা বন্ধ করে এবার লক করে দিলেন। আমি জানি সে খুব বেশি কিছু করতে পারবে না। কারণ বাসাভর্তি লোকজন। কিন্তু আমার নিজের সংশয় দূর করা দরকার। তাই ঠাণ্ডা মাথায় বসে থাকলাম। উনি দরজা বন্ধ করে এসে পাশে বসলেন আবার। কাঁধে-পিঠে হাত বুলিয়ে আদর করতে করতে অনেক "আদরের" কথা বলতে লাগলেন।
আমার কান দিয়ে ধোঁয়া বেরুচ্ছিলো যেন। সব কথা মনেও নেই। যে কয়টা কথা মনে আছে সেগুলো হলো-

"আমার তোমাকে যখন ইচ্ছা যেভাবে ইচ্ছা আদর করতে ইচ্ছা করলে আদর করতে দিবা তো?"
"তোমাকে যদি আমার ছেলে কষ্ট দেয়, আদর করতে না পারে তো আমার কাছে আসবা। আমি আছি কীজন্য? তোমার যত ধরনের আদর দরকার আমি সব দিবো।"
"এই যে তোমাকে এত আদর করি, তোমার শাশুড়ি দেখলে কী বলবে? বলবে যে এটা বাড়াবাড়ি। সে মাইন্ড করবে। তাই আমি কী করসি? আমি দরজা বন্ধ করে লক করে দিসি। বুঝতে পারসো?"
"আমার কিন্তু তোমাকে মাঝেমধ্যেই আদর করতে ইচ্ছা করবে। আমাকে আদর করতে দিবা তো? অনুমতি দিলা তো? আমাকে ছুঁয়ে প্রমিজ করো আদর করতে দিবা!"

পুরোটা সময় মুখে হাসি ধরে রেখে "হ্যাঁ বাবা, জ্বি বাবা" করে গেছি। শুধুমাত্র কী ঘটছে বুঝতে। আমার যা জানার তা আমি জেনে গেছি ততক্ষণে।

এরপর আমি কোন অজুহাতে ঘর থেকে বের হয়ে গেছিলাম মনে নেই। শুধু মনে আছে আমি রুমে ঢোকামাত্র আবারো রুমে ঢুকে দরজা লক করে দেয়। আমি সাথে সাথে এক ফ্রেন্ডকে ফোন দিয়ে কথা বলতে থাকি যাতে সে আবার গল্প করার অজুহাতে আমার গায়ে হাত না দেয়। এর মধ্যে আমার হাজবেন্ড ফিরে এলো। আমি তখনো আর কাউকে কিছু বলিনি। আমার শ্বশুরের যে ইমেজ তাতে আমার কথা হয়ত কেউ বিশ্বাস করবে না। পাগল ভাববে। আমার বাবা-মাও বিশ্বাস করবে কি না জানি না। কারণ আমার শ্বশুর-শাশুড়ির অনেক স্নেহ সত্ত্বেও তাদেরকে ভালোবাসা দূরের কথা, তাদের কখনো পছন্দও করতে পারিনি- এটা আমার কথায়, আচরণে বোঝা যায়। তাদের সাগরসমান ভালোবাসা উপেক্ষা করে নিজের খেয়ালখুশিমতো চলি। তাই আমিই খারাপ। তাই কাউকে কিছু না বলে সারারাত কাঁদলাম। হাজবেন্ড বারবার জিজ্ঞেস করলো। কিছু বললাম না। পরদিন সকালে এক কাপড়ে নিজের বাসায় চলে এলাম। এরপর তিনজন কাছের বন্ধুর কাছে সব খুলে বললাম।

আমি আমার হাজবেন্ডকে অনেক ভালোবাসি। প্রথমে তার প্রতিও ঘৃণা হচ্ছিলো ওই লোকের সন্তান হিসেবে। কিন্তু আমি জানি আমি তাকে অনেক ভালোবাসি। আর এও জানি যে সে তার পরিবারকে অন্ধের মতো ভালোবাসে। তাকে তার পরিবার থেকে সরিয়ে আনতে চাইলে সে হয়ত আমার থেকে সরে যাবে- এমন নানান কথা ভেবে হাজবেন্ডকে কিছু জানাইনি। পরে কিছু শুভাকাঙ্ক্ষীর পরামর্শে সিদ্ধান্ত নেই যে, না, আমাকে বলতে হবে। তাকে হারানোর ঝুঁকি নিয়েও সব খুলে বললাম। আমার সব আশংকা ভুল প্রমাণ করে সে আমাকে শুধু বিশ্বাসই করল না, সম্পূর্ণ সমর্থন দিলোশ্বশুরবাড়ি থেকে কাপড়চোপড় আর সবকিছু নিয়ে বাবার বাড়ি চলে এলাম। এখানেই থাকব আপাতত। পরের কথা পরে দেখা যাবে।